উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার গাইঘাটা থানার অন্তর্গত সীমান্তবর্তী সবুজে মোড়া একটি গ্রাম হলো তেঁতুলবেড়িয়া। আজ থেকে প্রায় ২৩০ আগে, তখন সবে বাংলার গর্ভনর হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন লর্ড কর্ণওয়ালিশ। সেই সময় অবিভক্ত বঙ্গদেশের তেঁতুলবেড়িয়া গ্রামে জৈনক প্রাণনারায়ণ প্রধান মহাশয় ১৭১২ শকাব্দে (তখন ভারতবর্ষে খ্রীষ্টাব্দপ্রথা সেইভাবে চালু হয় নি) একটি শিব মন্দির তৈরি করেন। সেই থেকে প্রায় সাতপুরুষ ধরে বংশপরম্পরায় পূজিত হয়ে আসছে এই মন্দিরটি।

বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে অবস্থিত ১৭১২ শকাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই বহুপুরোনো শিব মন্দিরটি আজও লর্ড কর্ণওয়ালিশ এর স্মৃতিবহন করে চলেছে। কথিত আছে, বেশ কয়েকবছর আগে একবার বাংলাদেশের কিছু দুস্কৃতি কষ্ঠিপাথরের তৈরি মূর্তি ভেবে এই শিব মন্দির থেকে শিব লিঙ্গটি চুরি করে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক চোরামার্কেটে সেটি বহুমূল্যে বিক্রি করা। কিন্তু চুরি করে নিজেদের গ্রামে ঢোকার সাথে সাথে চোরেদের একজনের অকস্মাৎ মৃত্যু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে ওই গ্রামে পর পর মৃত্যু ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শিব লিঙ্গটি চুরি করা অনুচিত হয়েছে মনে করে, চোরেরা সেটি রাতের অন্ধকারে পুনরায় খালি মন্দিরে ফেরত দিয়ে যায়। সেই থেকে মানুষের মনে এক শ্রদ্ধার জায়গা করে নিয়েছে এই প্রাচীন শিব মন্দিরটি।

বর্তমানে এই পুরোনো মন্দিরটি ভগ্নদশায় আছে। সংস্কারের অভাবে চারিদিকে জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। স্থানীয়বাসীন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মন্দিরটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ইতিহাসের পাতার স্থান দেওয়া হোক। নতুবা সময়ের সাথে সাথে আমরা হারিয়ে ফেলব ১৭১২ শকাব্দের এই স্মৃতিচিহ্নটিকে।

লেখক :
জ্যোতি প্রকাশ ঘোষ
লেখক পেশায় শিক্ষক , নেশায় পরিবেশ ও সমাজকর্মী

Advertisements