তিনি তিয়াসা আঢ্য। বাঘরোল বা মেছো বিড়ালের ওপর বিশ্বের সবথেকে দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ প্রকল্প “দ্য ফিশিং ক্যাট” এর অন্যতম মুখ। জন্ম ১৯৮৬ সালের জুন মাসে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা নিয়ে স্নাতক ২০০৮ সালে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জীর কাছ থেকে পেয়েছেন নারী শক্তি পুরস্কার। পেয়েছেন স্যাংচুয়ারি নেচার ফাউন্ডেশনের ওয়াইল্ড লাইফ সার্ভিস অ্যাওয়র্ড। সম্প্রতি পেলেন টাইমস্ ওমেন হিরো অ্যাওয়র্ড। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী মেছো বিড়ালকে নিয়ে কাজ করছেন ২০১০ সাল থেকে, হাওড়ায় আর চিল্কা হ্রদে। ‘দ্য গ্রিন ওয়াক’ এর সঙ্গে তিয়াসার কথা হল সম্প্রতি। ছুঁয়ে গেলেন মেছো বেড়াল থেকে ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দজী – নানান প্রসঙ্গ।

দ্য গ্রিন ওয়াক : টাইমস ওমেন হিরো হবার জন্য প্রথমেই কংগ্রাচুলেশনস্। কেমন লাগছে? কতটা অনুপ্রাণিত করছে আগামী কাজ করার জন্য?

তিয়াসা : আমি খুবই গর্বিত। এই অ্যাওয়র্ড যারা যারা ফিশিং ক্যাট নিয়ে কাজ করেন, যারা জলাভূমি নিয়ে কাজ করেন এবং যারা কনজারভেশন নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের সবার সাথে শেয়ার করছি। গর্বিত আমার টিম মেটসদের জন্য। আমার টিমমেট যাঁরা আছেন তাঁদের মধ্যে, অবশ্যই পার্থ দের নাম আগে নেব, যিনি আমার মেন্টর, ২০১০ সাল থেকে তাঁর হাত ধরেই আমি ওয়াইল্ড লাইফ ফিল্ডে প্রবেশ করি এবং তাঁর হাত ধরেই আমি শিখেছি যে শুধুমাত্র বন্যপ্রাণ দিয়ে হয়না, মানুষ বন্যপ্রাণ সমস্ত মিলিয়ে আসলে ইকোলজি। বলা যেতে পারে একটি প্রাণের সঙ্গে আরেকটি প্রাণের কী সংযোগ এবং এই প্রাণসমষ্টির সঙ্গে প্রকৃতির কী সংযোগ সেই সাবজেক্টটিরই নাম হল ইকোলজি।

তার সাথে সাথে অবশ্যই নাম নেব শুভ্রজ্যোতি চ্যাটার্জীর ও মেঘনা ব্যানার্জীর- এই দুজনের। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো কাজ করছেন ওনারা। বিভিন্ন জেলার যুব সম্প্রদায় এবং লোকাল অর্গানাইজেশনকে সাথে নিয়ে ওনারা কাজ করে যাচ্ছেন। ওনাদের দেখে মনে হয় ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে শুধুমাত্র সংরক্ষণ মানসিকতাই নয়, এক্ষুনি কিছু করে পরিস্থিতির বদল হোক- এইটা চাওয়ার সাহসও আছে।

দ্য গ্রিন ওয়াক : নিশ্চয়ই, তাহলে আপনাকে যেমন অনুপ্রেরণা দিচ্ছে তেমন আপনাদের টিমের অন্যান্যদেরও নিশ্চয়ই খুব ভালো লাগছে?

তিয়াসা : হ্যাঁ কারণ একেকবার অ্যাওয়র্ডের পরিপ্রেক্ষিতে যখন এই বিষয়গুলো হাইলাইটেড হয়, তখন তো আসলে স্পিসিজ এবং স্পিসিজের কনজারভেশন প্রায়োরিটি- সেটাও হাইলাইটেড হয়, বাঘরোলটা কী এবং কোথায় থাকে এবং তার সংরক্ষণের সমস্যাটা কী সেটা জানবারও চেষ্টা হয় এবং সেটাই হচ্ছে দ্য মেইন অবজেক্টিভ অফ গেটিং অ্যাওয়র্ড। এতে আমরা সবাই খুবই খুশি একেকটি অ্যাওয়র্ড আমাদের চান্স দিচ্ছে যাতে আমরা আমাদের কথা বলতে পারি।

দ্য গ্রিন ওয়াক : আপনার এই কনজারভেশন নিয়ে কাজ করার ব্যাকগ্রাউন্ডটা কী? মানে ছেলেবেলা থেকে কি কোনো আইকন ছিল, যাকে দেখে খুব ভালো লাগত? কী সূত্রে পশুপাখিদের সঙ্গে আপনার এত সখ্যতা জন্মাল, সেটা যদি একটু বলেন?

তিয়াসা : আসলে আমি ছেলেবেলায় বড় হয়েছি একদম শহরের মধ্যে, কাছাকাছি কোনো পার্ক ছিল না এবং আমি একুশ বছর বয়স অবধি কোনো জঙ্গলেও যাইনি। আসলে বাবার হাত ধরেই কিছুটা মানসিক যাত্রা করেছিলাম একদম ছোটোবেলা থেকে। বাবা ওয়াইল্ড লাইফের ওপর সিনেমা দেখাতেন, বই দিতেন। আবার ‘আরণ্যক’ পড়েছিলাম একদম ছেলেবেলায়, ‘চাঁদের পাহাড়’ পড়েছিলাম, এই সূত্রে কিছুটা মানসভ্রমনের মতো করে একটা ভেবেছিলাম যে এই ফিল্ডে আমি আসতে চাই। ছোট্টোবেলায় সেটাই আমার অনুপ্রেরণা ছিল। প্রবলভাবে স্বপ্ন দেখেছিলাম। আসলে আমার লিটারেচর পড়তে ভালো লাগে কিন্তু আমি বিজ্ঞান নিয়েছি, যাতে আমি ওয়াইল্ড লাইফে আসতে পারি।

আমার বেসিক্যালি কোনো আইডল নেই। কিন্তু আমি খুব খুব ভাগ্যবান যে অনেক ভালোমানুষের সঙ্গে আলাপ করতে পেরেছি এবং তাঁরা সকলে মিলে আমাকে প্রকৃতিকে বুঝতে শিখিয়েছেন। অবশ্যই নাম নেব কুশল মুখার্জীর – অমন একজন ন্যাচারালিস্ট বেঙ্গলে আছেন, তা আমাদের রাজ্যের গর্ব। উনি একটা কথা বলেছিলেন যা ওনার মা ওনাকে বলেছিলেন- “নদী হচ্ছে সাপের মতো। সাপকে কাটলে সাপ যেমন ছটফট করতে থাকে, সেইরকমভাবে নদীর স্বাভাবিক গতি কেটে দিলে নদীও ছটফট করে।” অথচ সেই নদীর জন্যই কত বড় বড় সভ্যতা তৈরি হয়েছে…..
কুশলদা বলেন “প্রকৃতিকে অতি সামান্য বোঝে মানুষ, এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য কী তা নিয়ে যখন এখনো গবেষণা চলছে, তখন তাকে এমন ভাবে ওলট পালট করলে আমরা কি নিজেই ঠিক পথে চলতে পারব?” এটা হচ্ছে লেশন অফ মাই লাইফ ।
আর তার সাথে রতনলাল ব্রহ্মচারী, ড. রতনলাল ব্রহ্মচারী…..

দ্য গ্রিন ওয়াক : যিনি বাঘের ফেরোমেন নিয়ে কাজ করেছেন……

মেছো বেড়াল : বাঘরোল

দ্বিতীয় পর্ব আসছে পরবর্তী রোব্বার