অহিংস মাংস

দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : অহিংস মাংস উৎপাদনের জন্য ভারত সরকারের ‘দ্য ইউনিয়ন ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজি’ হায়দ্রাবাদের দুটি সংস্থা ‘সেন্টার ফর সেলুলার এন্ড মলিকুলার বায়োজোলজি’ ও ‘ন্যাশানাল রিসার্চ সেন্টার’এর জন্য ৪.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে | ভারতবর্ষে অহিংস মাংসের অন্যতম প্রবক্তা, ‘হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল- ইন্ডিয়া’র ডেপুটি ডাইরেক্টর আলোকপর্ণা সেনগুপ্ত জানান,

“আমাদের কাছে গর্বের বিষয় যে ভারত সরকার ভবিষ্যতের প্রোটিনের জন্য বিনিয়োগ করল | কোষ-নির্ভর কৃষিকাজে ভারত নতুন যুগে প্রবেশ করল |”

বেশ কিছুদিন ধরে অনেকগুলি গবেষণা থেকে উঠে আসছিল, বেশি বেশি মাংস খাওয়া পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক | ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইন্সটিটিউট , ইউ.এন. ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন ও পিটেস্কি এট অল ২০০৯ এর তথ্য অনুযায়ী মাংসের জন্য পশুপালনে ১৪% থেকে ১৮% কার্বন নির্গমন করে সামগ্রিক কার্বন নির্গমনে দ্বিতীয় | ৬৪% কার্বন নির্গমন করে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রথম | পরিবহন ক্ষেত্রে কার্বনডাইঅক্সাইড নির্গমন ১৩.৫% | অর্থাৎ পরিবহনকে বিশ্ব উষ্ণায়ণের অন্যতম মাধ্যম ভাবলেও মাংস উৎপাদন তার থেকেও ভয়ঙ্কর |

শুধু কার্বনডাইঅক্সাইড নির্গমন নয় , অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনেও পশুপালন প্রথম সারিতে | গরুর মতো পশুরা প্রচুর পরিমাণে মিথেন নির্গমনের জন্য দায়ী | মিথেন পৃথিবীকে কুড়ি গুণ বেশি গরম করে কার্বনডাইঅক্সাইড থেকে | মনুষ্যসৃষ্ট মিথেনের ৩৭% ও নাইট্রাস অক্সাইডের ৬৫% আসে মাংসের জন্য পশুপালন থেকে |‌ তাই বিশ্ব উষ্ণায়ণকে বাগে আনতে পৃথিবী জুড়ে ভেগান ফুডের দিকে ঝোঁকা যায় কিনা তার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে | এরকম সময় ভারত সরকারের অহিংস মাংসে বিনিয়োগ বিকল্প ভাবনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা |

অহিংস মাংসকে অনেক সবুজ মাংসও বলেন যা আসলে নির্দিষ্ট পশুর শরীর থেকে কোষ নিয়ে তা টেস্টটিউবে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পাওয়া যায় | প্রথমে পশুটির পেশিবহুল অংশে অ্যানাসথেসিয়া দেওয়া হয়, তারপর কিছুটা মাংস কেটে নেওয়া হয়, এতে পশুটির কোনো ক্ষতি হয় না | মাংস থেকে মায়োস্যাটেলাইট বা মায়োব্লাস্ট কোষকে বিচ্ছিন্ন করে টেস্টটিউবের গ্রোথ মিডিয়ামে রাখা হয় | গ্রোথ মিডিয়ামে উপযুক্ত পুষ্টি পদার্থ ও বৃদ্ধির সকল উপাদান থাকে | টেস্টটিউবে কোষবিভাজনের উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে পশুটির কোষ বিভাজিত হতে থাকে ও পরিশেষে টেস্টটিউব জুড়ে বড় মাংসপিন্ডে পরিণত হয় | এই মাংসই অহিংস মাংস, যা পেতে কোনও রকম পশুকে হত্যা করতে হয় না, আবার প্রোটিন মূল্যও স্বাভাবিক মাংসের মতই | অহিংস মাংসের আর একটি সুবিধা হল এটা বিপুল গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের কারন হয় না | যদিও সবুজ মাংস ভালো কিনা মন্দ তা নিয়ে একটা বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে , তবুও সমস্যাগুলো দূর করা গেলে সবুজ মাংস বিকল্প হতেই পারে |

Cell based meat

ভারতবর্ষের আগেই আমেরিকা, জাপান, নেদারল্যান্ড, ইজরায়েলের মতো দেশ সবুজ মাংস নিয়ে কাজ করছে, দেশগুলির সরকার বিভিন্ন সংস্থাকে সবুজ মাংসের জন্য উৎসাহিতও করছে নানা ভাবে | সংস্থাগুলো টেস্টটিউবে প্রাপ্ত মাংসকে স্বাভাবিক মাংসের মতো করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কয়েকটি সূত্র বলছে প্রোটিন মূল্যের দিক থেকে এটি স্বাভাবিক মাংসের মতো হলেও স্বাদে কিছুটা আলাদা | দেশগুলোর বিজ্ঞানীরা স্বাদের স্বাভাবিকতা আনার জন্য কাজ করে চলছে | গুড ফুড ইন্সটিটিউট এর ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টের বরুণ দেশপান্ডে বলেন,

“কোষ নির্ভর মাংস মানুষ ও পৃথিবীর জন্য আরো ভালো নতুন খাদ্যতন্ত্র গড়ে তুলবে | আমাদের লক্ষ্য ২০৫০এ দশ বিলিয়ন মানুষকে সবুজ প্রোটিন উপহার দেওয়া |”

অর্থাৎ বুঝতেও পারা যাচ্ছে ভারত সরকারের অহিংস মাংসের জন্য বিনিয়োগ অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব উষ্ণায়ণের বিরুদ্ধে তুরুপের তাস হয়ে উঠবে সাথে সবুজ পৃথিবীর পথে ভারতবর্ষকে আরো দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে |

Advertisements