-শুভ্রদীপ ঘোষ : বিশিষ্ট তরুন পরিবেশকর্মী

২১শে এপ্রিল,২০১৯ রবিবার : গ্রামীণ হাওড়া এলাকায় শিকার উৎসব ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে জোরালো প্রচারাভিযানে নেমেছে গ্রামীন হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চ । এই মঞ্চ প্রথম থেকেই বন্যপ্রাণীর শিকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এইবারও আমতার পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে নিয়ে তারা বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। গত শনিবার গ্রামীণ হাওড়ার জয়পুর থানা এলাকার থলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন সেহাগড়ি মোড়ে ও আমতা থানার নারিট মোড়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালায় ও লিফলেট বিলি করে। এই কর্মসূচীতে সেদিন উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিদ সৌমেন ঘোষ, সায়ন দে, প্রদীপ রঞ্জন রীত, অনির্বান রানা ও সৌভিক ঘোষ। গতবছর বাইনানে এক শিকারীর দল আসার খবর থাকায় নারিট মোড়ে প্রচারে বেশি জোর দেওয়া হয়।

এই অভিযানে যুক্ত হয় শিক্ষিত একঝাঁক যুবক যুবতীতে ভরপুর আমরা শ্যামপুরবাসী(হাওড়া) ফেসবুক গ্রুপ । এদেরকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়ার শ্যামপুর ১নং ব্লকের অধীনে শ্যামপুর মোড়ে শিকার উৎসবের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়। দেড় ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে একে একে নিজেদের বক্তব্য রাখেন মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ, সায়ন দে, বিশ্বরূপ জানা প্রমুখ। পরিবেশকর্মী ও শিক্ষক প্রদীপরঞ্জন রীত মহাশয় বলেন,

“কোনো স্থানের বাস্তুতন্ত্রের অনেকটাই নির্ভর করে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর। তাই অসচেতনভাবে বন্যপ্রাণী শিকার চলতে থাকলে যেমন প্রানীগুলি পরিবেশ থেকে হারিয়ে যাবে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেখানকার বাস্তুতন্ত্র। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে বন ও বন্যপ্রাণী উভয়ই জরুরি, আর তা সম্ভব হবে কেবল স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায়।”

এর পাশাপাশি চলে স্থানীয় দোকানদার, ব্যবসায়ী, বাস যাত্রী ও পথচলতি মানুষদের মধ্যে লিফলেট বিলি।

এরপর প্রচার অভিযান চলে গাদিয়াড়া নদীর তীরে। সেখানে সঙ্গে পাওয়া যায় স্থানীয় মানুষজনদেরও, তারা জানান, আগের থেকে পাখির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। পাখির মাংস বাজারে অবলীলায় বিক্রি করছে একশ্রেণীর মানুষ এবং তারা রীতিমতো ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। সচেতন গ্রামবাসীর থেকে এই আশ্বাসও পাওয়া যায় যে এধরণের কোনো দল শিকারে এলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সংগঠনগুলিকে সহযোগিতা করবেন।

গ্রামীণ হাওড়ায় মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণমূলক সচেতনতা ও প্রচারে পাশে পান বনদফতরের আধিকারিকগণদেরও। জনৈক এক আধিকারিকের কথায়, “কিছু মানুষের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির ফলে পশু পাখির সংখ্যা দারুনভাবে কমতে বসেছে। এইধরনের শিকার রুখতে স্থানীয় মানুষদের পাশে পাওয়া খুব দরকার। সেক্ষেত্রে এই পরিবেশ যৌথ মঞ্চের কর্মসূচী নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।” সকলের সহযোগিতা ও সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাওড়া জেলা থেকে শিকার উৎসবের মতো ঘটনা যাতে পুরোপুরি নির্মূল করা যায় – সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চ ।

গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চের প্রচার
Advertisements