দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : হিমাচল প্রদেশে নির্বিচারে বাঁদর মারাই এখন আইন সিদ্ধ তবে তা ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ পর্যন্ত | কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯এর ১৪ ফেব্রুয়ারি হিমাচল প্রদেশের ১১ টি জেলায় বানরকে ভার্মিন ঘোষণা করেছে আগামী একবছরের জন্য | হিমাচল প্রদেশের বনমন্ত্রী গোবিন্দ সিং ঠাকুর জানান,

“রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর বানরকে ভার্মিন ঘোষণা করার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে জানান, বাঁদর জেলাগুলিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছিল, সাথে মানুষের উপর আক্রমণাত্মক হচ্ছিল |”

বন্য জীবজন্তুর আইন অনুসারে সমস্ত প্রজাতিদের I থেকে V মোট পাঁচটি সিডিউলে ভাগ করা যায় | সিডিউল I প্রাণিরা সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত ; বাঘ থেকে গাঙ্গেয় শুশুক সিডিউল I এর অন্তর্ভূক্ত | এদের শিকার করা যায় না, শিকার করলে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা আছে আইনে | II , III সুরক্ষিত কিন্তু এদের অনুমতি সাপেক্ষে শিকার করা যায় | সিডিউল V এর প্রাণি যেমন কাক বাঁদর ভার্মিন শ্রেণীর, এদের শিকার করা যায় | ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন আক্টের Section 11(1)a অনুসারে চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওর্ডানের অনুমতি সাপেক্ষে একমাত্র তখনই বন্যপ্রাণীদের শিকার করা যায় যখন প্রানিটিকে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সরানো যাচ্ছে না | অনুমতি সাপেক্ষে সিডিউল II, III, IV এর প্রাণিদের শিকার করার অনুমতি পাওয়া যেতে পারে যদি তারা মানুষ ও সম্পদের জন্য ক্ষতিকর হয় | Section 62 অনুসারে রাজ্য সরকারের অনুরোধে কেন্দ্র সরকার সিডিউল I , II প্রাণি ব্যতিত অন্য প্রাণিদের ভার্মিন ঘোষণা করতে পারে|

পশুপ্রেমিরা “ভার্মিন না ভিক্টিম !” বিতর্কের সূত্রপাত করে দিয়েছেন, পরিবেশকর্মী সঞ্জিত কাষ্ঠ বলেন,

পরিবেশকর্মী সঞ্জিৎ কাষ্ঠ

“বাঁদরও আমাদের বাস্তুতন্ত্রের অংশ, তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার ও প্রয়োজনীয়তা আছে, খাদ্য শস্য নষ্ট করছে এটা একটা অজুহাত মাত্র ; পশুপাখি আছে বলে বাস্তুতন্ত্র টিকে আছে, খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে, ফলে তাদের অধিকার আছে খাদ্যশস্যের উপর | আর মানুষের উপর আক্রমন এটা বোকা বোকা কথা, বাঁদর হিংস্র নয়, মানুষ তাদের বিরক্ত করলে, তাদের আক্রমন করলেই তারা আক্রমন করে |”

হিমাচল প্রদেশে বানরকে ভার্মিন ঘোষণা এই প্রথম নয় ; ২০১৬ তেও এক বছরের জন্য এটি করা হয়েছিল| আরো ভয়ঙ্কর হল, মহারাষ্ট্র ও গোয়া জাতীয় পাখি ময়ূরকে আর পশ্চিমবঙ্গ হাতিকে ভার্মিন ঘোষণার আবেদন করেছে কেন্দ্রে |

প্রাণি হত্যাকে বৈধতা দিয়ে কখনোই “Human-Wildlife Conflict” কে আটকানো যাবে না বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা | বনাঞ্চলকে বাড়ানো, বনে পশুপাখির খাদ্য ও জলের সংস্থানকে নিশ্চিত করে, প্রাণিদের অধিকারকে সুরক্ষিত করে সমস্যার বেশ কিছুটা সমাধান করা যেতে পারে | তারপরও একটু আধটু ঝগড়া মারপিট তো হতেই পারে, একই পরিবারের মধ্যে থাকতে গেলে সেটাই তো দস্তুর |

প্রতীকী ছবি
Advertisements