দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : এখন থেকেই যত্ন না করলে দরজা জানলা খোলা আস্ত একটা গ্যাস চেম্বারে পরিণত হবে কলকাতা। এ নিয়ে বেশ শঙ্কিত পরিবেশবিদরা।

জনসংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সম্প্রতি কলকাতা মেট্রোপলিটন এরিয়া বা গ্রেটার কলকাতার জনসংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের সবথেকে জনঘনত্বপূর্ণ শহরগুলোর ভিতর একটি হল কলকাতা। এক কিলোমিটার লম্বা চারটে রাস্তা দিয়ে বানানো ছোট্টো একটা বর্গক্ষেত্রের মধ্যে ২৪০০০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস করে ।

অন্যদিকে হাওড়া, হুগলি, ২৪ পরগনা – গ্রেটার কলকাতার এইসব জায়গাগুলো বাদ দিলে খোদ কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মধ্যে থাকা শহরাঞ্চলের লোকসংখ্যা পঞ্চাশ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অথচ লোকসংখ্যা আকাশচুম্বী হলেও শহর এবং শহরতলি মিলিয়ে AQI মেশিন আছে মাত্র চারটি। এরমধ্যে দুটো হাওড়ার পদ্মপুকুর ও ঘুসুড়িতে, আর মূল কলকাতার দুটি রাখা আছে রবীন্দ্র ভারতী ইউনিভার্সিটি আর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। তার মধ্যে বিকল হয়ে পড়েছে ভিক্টোরিয়ার মেশিনটি। ফলে গোটা শহরের মানুষের জন্য একটি মেশিনই ভরসা |

ন্যাশানাল এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী এ কিউ আই মেশিনগুলিতে দূষণের মান মাপার জন্য মূলত আটটি মাপকাঠি আছে। পার্টিকুলেট ম্যাটার ( PM ২.৫, PM ১০), সালফার ডাই অক্সাইড, লেড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ও ওজোন এই আটটি দূষকের ভিত্তিতে বায়ুর স্বাস্থ্য পরিমাপ করা হয়ে থাকে। কলকাকাতে আবার এই গ্রাউন্ড ওজোন বা ব্যাড ওজোন মাপার কোনো ব্যবস্থা নেই। অটো এমিশন এক্সপার্ট পরিবেশবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ জানান,

পরিবেশবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ

“সাধারণত গাড়ি ও কলকারখানা থেকে নির্গত নাইট্রোজেনের অক্সাইড ও ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড যারা বাতাসে ভেসে বেড়ায়,তাদের সঙ্গে সূর্যালোকের বিক্রিয়ায় এই গ্রাউন্ড ওজোন (O3) তৈরি হতে পারে যা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক।”

প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে ওজোনের মাত্রা ০.২ মিলিগ্রাম অতিক্রম করলেই তা বিপদসীমা ছুঁতে পারে। হতে পারে নাক, কান, গলা বা চোখের নানা সমস্যা। যাদের অ্যাস্থমা আছে তাদের সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে ব্যাড ওজোন। আর বায়ুতে এর মাত্রা ৫ PPM হলে যেকোনো সময়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অথচ কলকাতা শহরের বায়ুদূষণ পরিমাপকারী মেশিনগুলোতে ওজোন মাপার কোনো ব্যবস্থাই নেই।

WHO এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বায়ুদূষনের ফলে প্রতিবছর ৭ মিলিয়ন মানুষ মারা যাচ্ছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে। প্রতি দশজন মানুষের মধ্যে নয়জন মানুষ দূষিত বায়ুতে শ্বাস নিতে বাধ্য হন। এই অবস্থায় কলকাতার জন্য বরাদ্দ মাত্র দুটি মেশিন। নেই ওজোন মাপার ব্যবস্থা। তাই আপাতত ভবিষ্যতের দিকেই তাকিয়ে আছেন পরিবেশবিদরা।

Advertisements