দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : পাখিদের চেঁচামেচিতে কান পাতা দায়। সোনারপুর স্টেশনে ঢোকার মুখে অশ্বত্থ গাছটায় কম করে শ’খানেক পাখির বাস। একেকটা লোকাল আসছে, অমনি স্টেশন চত্বর নিত্যযাত্রীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সেই ভিড় থিতোতে না থিতোতেই ফের রেলের তীক্ষ্ণ সিগন্যাল জানিয়ে দিচ্ছে আবার একদল মানুষ চলে যাচ্ছেন, কেউ ফিরে আসছেন। এত ব্যস্ততার মধ্যে দু’নম্বর স্টেশনের এক প্রান্তে হঠাৎ চোখে পড়ে যেতে পারে দুটি আগা মাথা ছাঁটা ন্যাড়া গাছের দিকে। সামনেই কালবৈশাখী, তারপর বর্ষা। তাই রেলের তরফে সোনারপুরের মতোই ডালপালা ছাঁটার পালা চলছে ইস্টার্ন ও সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনে। নরেন্দ্রপুর থেকে গড়িয়া আসতে গিয়েও এরকম একধার ছাঁটা বেশ কিছু গাছ চোখে পড়ে।সোনারপুরের স্টেশন সুপারিটেনডেন্ট এস.পি.শর জানান,

এটা নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই বর্ষার আগে এই গাছগুলি ছাঁটা হয়। আসলে ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে অনেক সময় রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

নিত্যযাত্রী কার্তিক প্রামাণিকও একই কথা বলেন। অপর এক যাত্রী মধুসূদন মন্ডল জানান,

গড়িয়া স্টেশনে ঢোকার মুখেও এভাবে কিছু গাছ ছাঁটা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকবার ডাল ভেঙে যাবার কারণে আটকে গেছিলাম।

এখন ডালপালা ছেঁটে দিলেও বর্ষার জলে ফের স্বমহিমায় বেড়ে উঠতে পারে তারা। অথচ গাছ ছাঁটার পদ্ধতি নিয়ে সম্প্রতি প্রচুর আলোচনা চলছে। গাছ কাটার ফলে বাসা হারাচ্ছে পাখিরা। আর আম আদমিরা হারাচ্ছেন ছায়া। প্রত্যেকটি প্রাচীন গাছই একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের মতো, তাই জানা না জানা অসংখ্য পাখি মৌমাছি পোকামাকড়রা নিঃশব্দে বাসা হারাচ্ছে সর্বত্র। বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগে নিজেদের ভালো থাকার চাহিদা গুলি আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত না ঠিক করে সাজিয়ে নিতে পারি, ঠিক করতে পারি কোনটা বেশি প্রয়োজনীয় ততক্ষণ পর্যন্ত গাছেদের উপর এই কোপ পরাটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে আশার কথা ঝড়বৃষ্টির কারণে গাছ ছাঁটতে বাধ্য হলেও গাছ লাগানোতে রেল কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমর্থন আছে। গ্রিন ওয়াকের তরফে সোনারপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আগামী বর্ষায় গাছ লাগানোর অনুমতি চাইতে রেলের তরফে পূর্ণ সমর্থন পাওয়া গেছে। রেলের খালি জায়গায় গাছ লাগাতে আগ্রহী রেল। স্টেশন সুপারিটেনডেন্টের কথায় গাছ এমন একটা জিনিস যা থেকে পরবর্তী প্রজন্মও উপকৃত হতে পারে।

সোনারপুর স্টেশন
Advertisements