একদিকে যেমন দূষণ বাড়ছে অন্যদিকে বিদ্যুতের চাহিদাও | দুটিকে বাগে আনতে সবুজ বিদ্যুতের দিকে ঝোঁকা ছাড়া কোনো উপায়ই নেই | সেক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ অন্যতম প্রধান বিকল্প হিসাবে উঠে আসছিল | ২০১৪ তে ভারতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র তিন গিগাওয়াট , ২০১৯ এ আজ দাঁড়িয়েছে ২৮ গিগাওয়াট | ২০২২ এ ১০০ গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুতের পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার | আপতদৃষ্টিতে এটি দারুণ পদক্ষেপ হলেও , সৌর বিদ্যুতের আড়ালে বাড়ছে নতুন বর্জ্য “সোলার ই-ওয়েস্ট” | যা নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতের কোনো চিন্তাভাবনাই নেই |

ভারতীয় সংস্থা বি.টি.আই এর সাম্প্রতিক তথ্য বলছে , এই ভাবে সোলার ই-ওয়েস্ট বাড়তে থাকলে ২০৩০ এ তা পৌঁছাবে ২০০,০০০ টনে আর ২০৫০ এ পৌঁছাবে ১.৮ মিলিয়ন টন যা বর্তমানের সামগ্রিক ই-ওয়েস্টের পরিমান | এত কিছুর পরও বি.টি. আইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টের ভিনয় রুস্তাগী বলেন, “ভারতের ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের যে নিয়ামাবলী আছে তাতে সোলার ফোটোভোল্টিং ওয়েস্টের কথা বলাই নেই |” ভারতে এই মুহূর্তে সোলার ই-ওয়েস্ট রিসাইকেলের কোনো প্রযুক্তিই নেই , এমনকি সাধারন ব্যবস্থাপনাটুকুই নেই |

পরিবেশবিদরা নতুন ধারার বর্জ্য নিয়ে এখন থেকেই ভয় পেতে শুরু করে দিয়েছেন | সোলার সেলে ৯০% থাকে কাঁচ , আলুমিনিয়ামজাতীয় পদার্থ যা ক্ষতিকর নয় ; ১০% থাকে পলিমার , সীসা , ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু , ধাতু সংকর যা ক্ষতিকর | কোনোরকম ব্যবস্থাপনা ছাড়া ও রিসাইকেল ছাড়া সোলার ই-ওয়েস্ট জমতে থাকলে মানুষ এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে | রিসাইকেল না হলে তা ডাম্পিং করা হবে বা ল্যান্ডিফিল করা হবে , সেখান থেকে প্রতিনিয়ত ক্যাডমিয়াম , সীসাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থগুলি জল ও মাটিকে বিষাক্ত করবে , সেখান থেকে খাদ্যশৃঙ্খলেও পৌঁছে যাবে যা মারাত্মক | আবার এগুলিকে পুড়িয়ে দিলে বাতাসকেও দূষিত করে তুলবে | বিশেষজ্ঞরা বলছেন সৌরবিদ্যুতের বর্জ্য পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের বর্জ্য থেকে ৩০০ গুণ বেশি ক্ষতিকর |

সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল মোটামুটি ৩০ বছর | ১০ বছরে সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের ক্ষমতা ২০% কমে যায় , ২০ বছরে ২০% অবশিষ্ট থাকে | অর্থাৎ ২০ বছরেই ফোটোভোল্টিক প্যানেল বর্জ্যে পরিনত হবে | আমেরিকা চীনের মতো কিছু দেশ এখনই নতুন ধারার বর্জ্য নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিয়েছে | যদিও ভারতবর্ষে মারাত্মক বিপদটি নিয়ে হেলদোল নেই | হাওড়ার পরিবেশ যৌথ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ জানান, “ই-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের ২০১৬ এর আইনটিকে পরিবর্তন করে সোলার ই-ওয়েস্টেকে আইনে আনার দাবি রাখছি, শুধু আইন করলেই হবে না তাকে কার্যকারীও করতে হবে | আমরা রাজ্য জুড়ে পরিবেশকর্মীরা এটি নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলব |”

সৌরবিদ্যুৎ তখনই সবুজ হবে যখন ফোটোভোল্টিক প্যানেলের রিসাইকালিং যথাযথভাবে হবে , না হলে অচিরেই প্লাস্টিকের থেকেও ভয়ঙ্কর বিপদ হয়ে দাঁড়াবে সৌরবিদ্যুৎ | এখনই সব মহলে সচেতনতা প্রসার যেমন দরকার তেমনি যে সব কোম্পানি ফোটোভোল্টিক প্যানেল তৈরি করছে বা বাজারজাত করছে তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে রিসাইকেল করার , সরকারকে যেমন আইন করতে হবে , কোম্পানিগুলিকেও বাধ্য করতে হবে | আর তা না হলে নতুন বিপদের নাম সৌরবিদ্যুৎ |

Advertisements