দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : ২০১৮ এর ১৩ এপ্রিল লালগড়ের জঙ্গলে একটি বাঘের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল , রাজ্য-রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছিল খুব | ঠিক একবছর পরে ২০১৯ এর ১৩ এপ্রিল বন্যপ্রাণ হত্যা ও শিকার উৎসবের বিরুদ্ধে হাওড়ার বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চ সচেতনতা কর্মসূচী গ্রহণ করে |

এপ্রিল মে মাস জুড়ে চলা শিকার উৎসবের বিরুদ্ধে বন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাকে সঙ্গী করে ১৩ই এপ্রিল বাগনান রেল স্টেশন চত্বর থেকে প্রচারাভিযানের উদ্যোগ নেয় গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। নেতৃত্বে ছিলেন পরিবেশ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ, পরিবেশকর্মী তথা লোকসংস্কৃতি গবেষক মাননীয় প্রদীপ রঞ্জন রীত মহাশয়, শিক্ষক তথা সমাজকর্মী সায়ন দে ও অভিনেতা অনির্বান রানা। মাইকিং ও লিফলেট বিলি ও জনে জনে লোকজনকে বোঝানোর কাজ করেন তারা। প্রদীপ রঞ্জন রীত মহাশয় বলেন – “বাগনান রেল স্টেশন দিয়েই মেদিনীপুর থেকে এই শিকারী চক্র প্রবেশ করে গ্রামীণ হাওড়ায়। গত বছর রেল পুলিশের উদ্যোগে এদের মৃত পশু সমেত ধরাও হয়। তাই বাগনান রেল পুলিশদের এ নিয়ে এবছরও সজাগ থাকার অনুরোধ জানানো হয় |”

শুভ্রদীপ ঘোষ বলেন “এই শিকারী দলের সঙ্গে বিলুপ্তপ্রায় পশুর চোরাশিকারী ও স্মাগলিং গ্রুপের যোগাযোগ থাকে। পুরুলিয়া বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরে তা প্রকাশ্যেও এসেছে পরিবেশকর্মীদের অভিযানে। জীববৈচিত্র্যের বিনষ্ট করে এই কুচক্রের কাজ কিছুতেই গ্রামীণ হাওড়ায় বরদাস্ত করা হবে না”, যৌথমঞ্চের পরিবেশকর্মীরা স্থানীয়দের আবেদন জানান যে আশে পাশে এধরণের লোকজন বন্যপ্রাণীর শিকার করতে এলে স্থানীয়রা যেন বাধা দেন এবং প্রশাসনকে দ্রুত খবর দিতে অনুরোধ করা হয় ।

হাওড়ার বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা কর্মসূচীর সাথে সাথে পরিবেশ মঞ্চের সদস্যরা ট্রেনেও প্রচার করেন । ট্রেনের মধ্যে মেদিনীপুর থেকে আসা লোকজন সহ সকলকে লিফলেট বিলি ও ট্রেনের মধ্যে মাইকিং এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও এই শিকার উৎসবের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সচেতন করা হয়।

প্রতীকী ছবি
Advertisements