দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : প্লাস্টিক এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যার মধ্যে একটি | যদিও একসময় মনে হয়েছিল প্লাস্টিক সবচেয়ে বড় সমাধানের মধ্যে একটি | আসলে প্লাস্টিক অসাধারণ একটি পদার্থ যা মানুষের দরকার ছিল | এমন একটি পদার্থ মানুষ খোঁজ করে আসছিল যা সহজলভ্য , হাল্কা ও স্থায়ী হবে , সহজে বিক্রিয়া করে ভেঙে যাবে না ; প্লাস্টিক সবকটা গুণের অধিকারী | কিন্তু ঠিক এইখান থেকে সমস্যাটির সৃষ্টি | মাত্র একশ বছরের কম উৎপাদনকালের মধ্যে প্লাস্টিক এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে – মাটি , ভৌমজল , সমুদ্র , বাতাস ; এমনকি খাদ্যশৃঙ্খলেও তার অবাধ বিচরণ | বিপুল চাহিদার জন্য প্রতিবছর পঞ্চাশ মিলিয়ন টন প্লাস্টিকের পলিমার PET উৎপাদন করতে হচ্ছে ; যার আবার খুব সামান্য অংশই রিসাইকেল করা সম্ভব হচ্ছে , কারন রিসাইকেল পদ্ধতি ব্যয়বহুল ও প্রচুর শক্তির দরকার | শুধুমাত্র রিসাইকেল করা যাচ্ছে না বলে অসাধারন একটা আবিস্কার মানুষের কাছে ভিলেন হয়ে উঠেছে |

২০১৬ তে জাপানি বিজ্ঞানীরা সমস্যাটির সমাধান খুঁজে পান ; তারা এমন একটি ব্যাক্টেরিয়া খুঁজে পান যা PET এর উপর জন্মাতে পারে ও তাকে হজমও করতে পারে | আরো গবেষণার পর বোঝা যায় , ব্যাক্টেরিয়াটি এটি করতে পারে কারন তার শরীরে দুটি বিশেষ এনজাইম – PETase ও MHETase | PETase প্লাস্টিক কে ক্ষুদ্রতর PET গঠনকারী এককে ভেঙে দেয় | MHETase এর কাজ শুরু এখানেই | এককটিকে ভেঙে টেরেফথালিক অ্যাসিড ও ইথিলিন গ্লাইকলে পরিণত করে ; যা প্লাস্টিক তৈরির উপাদানও | বিজ্ঞানীরা PETase ও MHETase প্রক্রিয়াকে কৃত্রিমভাবে করার চেষ্টা করছেন | এটি করা গেলে শক্তির ব্যয় তেমন না করেই , সুলভে প্লাস্টিককে রিসাইকেল করা যাবে |

প্লাস্টিক শুধু এইসময়ের পদার্থ নয় , এটি আগামী শতাব্দীর জন্যও একটা অসাধারন আবিষ্কার , যা মানবভ্যতার অগ্রগতির জন্য খুব প্রয়োজন | ব্যাক্টেরিয়ার এনজাইম পদ্ধতিটি সফল ভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্লাস্টিক ভিলেন থেকে নায়কে পরিণত হবে অচিরেই | ততদিনে প্লাস্টিক ব্যবহারে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে , যতটা কম ব্যবহার করা যায় আমরা ততটাই লাভবান হব |

প্রতীকী ছবি

Advertisements