দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : এতদিন প্রায় প্রতিষ্ঠিত সত্য ছিল যে জীবন উৎপত্তি হয়েছিল মহাসাগর থেকে , তারপর হাঁটি হাঁটি পা পা করে ডাঙ্গার দিকে তার যাত্রা শুরু | আর কুয়োর ব্যাঙকে তাচ্ছিল্য করার সাথে সাথে আমরা প্রতিদিন কুয়োকেও তাচ্ছিল্য করে গেছি | কিন্তু সব দিন তো আর সমান যায় না , মহাসাগরের কৌলিন্য হয়তো ঘুচে গেল কুয়োর কাছে | অন্তত এম.আই.টি. এর সদ্য প্রকাশিত গবেষণাপত্র সেটাই দাবি করছে |

গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র দশ সেন্টিমিটার গভীর পুকুরে নাইট্রোজেনের পরিমান জীবন সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত হতে পারে | কুয়োতে নাইট্রোজেন নাইট্রাস অক্সাইড রূপে অবস্থান করতে পারে যা এতটাই সংঘবদ্ধ হতে পারে যে তা জীবন সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে সহজেই | এটা গভীর মহাসাগরে এই ভাবে আপতত সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না এম.আই.টির গবেষকদের কাছে |

এম.আই.টির গবেষক সুকৃত রঞ্জন বলেন,” বজ্রপাত অনেকটা শক্তিশালী বোমের মতো কাজ করে , যা নাইট্রোজেনের তিনটি বন্ধনকে সহজে ভেঙে নাইট্রাস অক্সাইডে পরিনত করতে পারে | নাইট্রাস অক্সাইড বৃষ্টির মাধ্যমে গভীর মহাসাগর ও অগভীর পুকুরে জমা হতে থাকে | কিন্তু পুকুর বা কুয়োতে জল কম থাকায় সেখানে নাইট্রাস অক্সাইডের ঘনত্ব এতটাই বেশি হতে পারে যে কার্বন যৌগের সাথে বিক্রিয়া করে জীবনের সূচনা করতে সমর্থ হয় |” কুয়োর আয়তন দশ বর্গমিটার বা তার থেকে বেশি হলে ও গভীরতা ১০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার হলে জীবন সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয় | এটা অনেকটা আন্টার্টিকার গ্রীষ্মকালের ডন জুয়ান পুকুরের মতো যা ১০ সেন্টিমিটার গভীর |

সাম্প্রতিক গবেষণাটিকে সত্য মেনে নিলে জীবনের উৎপত্তি ও বিবর্তন নিয়ে অনেক ধারনাই বদলে যেতে পারে | সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে মহাসাগর থেকে ডাঙ্গার দিকে জীবনের অগ্রসরের তত্ত্বে | নতুন গবেষণা লব্ধ ফল অনুসারে জীবনের সৃষ্টি মহাদেশেই , ধীরে ধীরে তা মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হয়েছে | এখনই কোন সিদ্ধান্তে আসার সময় নয় , আরো গবেষণা ও ভাবনা চিন্তার সময় ; বিজ্ঞানের কাজই তো তাই | বিজ্ঞান মানেই অজস্র সম্ভাবনার মধ্যে দিয়ে সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা, যে চেষ্টাটা কোনোদিন হয়ত শেষ হওয়ার নয় | তবে আমরা আপতত কুয়ো আর কুয়োর ব্যাঙ জেতার উৎসবটা জমিয়ে করতেই পারি |

Advertisements