দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : কামারহাটি

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বর্তমানে প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে দূষণ। এছাড়াও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন এলাকাবাসী। বায়ু দূষণ ছাড়াও আরেকটা প্রধান সমস্যা হচ্ছে ভ্যাট বা কঠিন বর্জ্য পদার্থ। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একটা অংশ প্রান্তিক পল্লী। অাগরপাড়া স্টেশন থেকে যে পথে কামারহাটি যাওয়া যায় সেখানে এই বস্তিটি পড়ে। কাগজে কলমে এই বস্তিটি সম্ভবত কোনো পৌরসভারই অন্তর্ভুক্ত নয়। অথচ তিন চার পা পথ গেলেই বাকি অঞ্চলটা কামারহাটি পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত। বসতির পাশে একটা ভাঙাচোরা রাস্তা আর তার পাশে কয়েকতলা বাড়ির সমান আবর্জনার স্তুপ।

এই পথ দিয়ে ২৩০ বাস যাতায়াত করে। ডানলপ থেকে আগরপাড়া স্টেশনের অটো যাতায়াত করে। নারুলা ইন্সটিটিউটের ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকারাও যাতায়াত করে। অতএব রাস্তাটা বহুল ব্যবহৃত। সরকার, প্রশাসন কিংবা সাধারণ মানুষ কারোরই কোনো হেলদোল নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই আবর্জনা জমে জমে পাহাড়ের মত উঁচু হয়ে গিয়েছে। দুর্গন্ধে এ জায়গাটুকু অনেকেই নাকে রুমাল চাপা দেয়। কিন্তু যে কয়েকশো লোকের বসতি ঠিক এর পাশেই তাদের হয়ত আদমশুমারিতে গোনা হয়না।

ব্যারাকপুরের পরিবেশকর্মী কল্লোল রায় জানান, “বর্ষার দিনে এই আবর্জনা ধুয়ে রাস্তায় জল জমে। জল জমা এখানকার অন্য আরেক সমস্যা। কিন্তু যেখানে বসতি আছে, চারশো মিটারের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এক কিলোমিটারের মধ্যে হাসপাতাল আছে এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় বর্জ্য পদার্থ থাকবে তা কারো জানা নেই |”

মাঝে মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দারা ওই আবর্জনায় আগুন লাগিয়ে দেয়। কী বিপজ্জনক হারে দূষণের মাত্রা বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের দাবি, এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় আবর্জনা রাখা অবিলম্বে বন্ধ হোক। খুব শীঘ্রই সম্ভব না হলে যেখানে লোকের বসতি আছে সেখান থেকে দূরে রাখা হোক। বায়োডিগ্রেডেবল এবং নন বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্যকে আলাদা আলাদা ভাবে রাখা হোক এবং তৎসংক্রান্ত রি-সাইকেল বা রি-ইউজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। কোনো এলাকা কোন পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত সেটা নিয়ে বচসা না করে বরং কীভাবে পরিবেশকে নির্মল রাখা যায় সেটা নিয়ে সুস্পষ্ট ভাবনা গড়ে উঠুক।

ছবি প্রতীকী
Advertisements