দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : ঘরে রোজ অসংখ্য বই , নানা রকম পুস্তিকা ,খবরের কাগজ , খাতা , নানা রকম জিনিস জমা হতে থাকে | কিছু কিছু জিনিসপত্র কেজি দরে বিক্রি হলেও বেশিরভাগটাই জমতে থাকে , এক সময় আবর্জনায় পরিণত হয় | ঠিক এখান থেকেই “ভাবনা মুখে” এর ভাবনা শুরু | “ভাবনা মুখ” এর অন্যতম মুখ নরেশ জৈন বলেন ,” অবশ্যাম্ভাবী আবর্জনা ভারতের অন্যতম সোসাল ফান্ডের উৎস হতে পারে | যে ফান্ড চিকিৎসা থেকে , বয়স্কদের ভাতা , ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার খরচ বহনের জন্য ব্যয় হতে পারে | ”

“ভাবনা মুখ” এর অনুপ্রেরণায় হুগলীর শ্রীরামপুর ও বর্ধমানের মশাগ্রাম , উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি ও কলকাতাতে পেপার ব্যাঙ্ক বা ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক গড়ে উঠেছে | ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে স্থানীয়রা তাদের পুরানো বই ,খবরের কাগজ , খাতা , কাঁচ ডিপোজিট করেন | এইগুলি বেচে অঞ্চলগুলিতে গড়ে উঠেছে সোসাল ফান্ড | যা গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য , শিক্ষা ও বয়স্কদের জন্য ব্যয় হচ্ছে | নরেশবাবু জানান ,”২০১৬ থেকে ভাবনা মুখের কাজ শুরু করি , চারটি জায়গায় খুব ভালোভাবে কাজ চলছে , সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবে অনলাইনে অনেকেই যুক্ত আছেন | প্রতিদিনই নতুন নতুন মুখ আমাদের সাথে যোগ দিচ্ছে |”

মশাগ্রামের ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের নাম “জীবন শিখা” , জীবন শিখার অন্যতম সারদা মিশন শিক্ষণ মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন সাধুখাঁ বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক অভিভাবিকাদের পেপার ব্যাঙ্কে অসম্ভব আগ্রহ , তারাই এটিকে সফল করে তুলেছেন | বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরাও সরাসরি যুক্ত আছেন এর সাথে | আমাদের ব্যাঙ্কের সোসাল ফান্ড দিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি |” মশাগ্রামের মতো রাজ্যের অন্য তিনটি জায়গাতেও ভাবনা মুখের উদ্যোগ সমান আগ্রহে চলছে , অচিরেও যা হয়ত সমস্ত ভারতবর্ষে ছড়িয়ে যাবে , এমনটাই আশা নরেশবাবুদের |

“ভাবনা মুখ” এর ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে বর্তমান সীমিত কিছু প্রকার আবর্জনাকে ডিপোজিট করা গেলেও তারা ভবিষ্যতে যদি সব রকম আবর্জনা নিয়ে বিষয়টি ভাবেন ; তাহলে এইসময়ের একটা বড় সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে | শুধু সমাধান নয় আবর্জনা সভ্যতার সম্পদে পরিণত হতে পারে | এখন দেখার “ভাবনা মুখ” মানুষকে কতটা ভাবাতে পারে |

Advertisements