দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : মৌমিতা সরকার অশোকনগরের মেয়ে , পেশায় শিক্ষিকা | বাড়িতে রোজ প্লাস্টিক আসে গন্ডায় গন্ডায় | বোতল থেকে শুরু করে পলিথিন উপচে পড়ছিল বাড়ির ডাস্টবিনে | কিন্তু সেগুলো রিসাইকেল বা রিইউজের জন্য তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থাই নেই | ইউটিউবে মৌমিতা একদিন ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে গাছের টব তৈরি করতে দেখেন | দেখেই তার মাথায় চলে আসে ভাবনাটা | প্লাস্টিকগুলোকে সাইজ মতো কেটে আঠা দিয়ে লাগিয়ে টবের আকার দিতে থাকেন ; তারপর চলতে থাকে তুলির টান | ডাস্টবিনের প্লাস্টিক হয়ে ওঠে সুদৃশ্য টব | তারপর টবে লাগিয়ে দেন পছন্দ মতো ফল ফুলের গাছ |

এ’বার আর মৌমিতার কাছে প্লাস্টিক সমস্যাই নয় , রোজ বিকালে ডাস্টবিনের সব প্লাস্টিক তুলে নেন | ডাস্টবিনে একটা নতুন প্লাস্টিক মানে একটা নতুন গাছ | মৌমিতা জানান , “আমায় সবুজের নেশা পেয়ে গেছে | সেই নেশার কাছে প্লাস্টিক বড় অপ্রতুল , আমার আরো আরো প্লাস্টিক চাই ; আমি আরো সবুজ প্রাণকে আহ্বান করতে চাই পৃথিবীতে |” অশোকনগরের বাড়ির উঠান আশপাশ গাছে ভরে গেছে | তারপর ছাদেও তার বানানো টব বসানো শুরু হয়েছে | ছাদটা ফল ফুলের গাছে উপচে পড়ছে | মৌমিতার ক্লান্তি নেই ; তিনি টব তুলির রঙে রাঙিয়ে তুলছেন প্রতিদিনই | “আমার আরো টব চাই , বন্ধু বান্ধবীর সংখ্যাও প্রচুর , তাদের নিয়মিত উপহার দিতে হয় আমার রঙিন টবে বসানো গাছ | বিয়ে থেকে অন্নপ্রাশন আমার গাছ সবার চাইই |”

মৌমিতার অন্যরকম বাগানে শুধু গাছেরা আশ্রয় পেয়েছে এমন নয় , অনেক অনেক প্রজাপতি , পাখি , কীটপতঙ্গের ঠিকানাও তার বাগান | মৌমিতাকে তারা প্রত্যেকে চেনেও | কতরকমের খুনসুটি চলে তাদের সাথে ওঁর | কেউ কেউ গুনগুন করে গানও ধরে | মৌমিতাও কম যায় না , ‘আমারো পরানও যাহা চায় তুমি তাই–‘ , মৌমিতার খালি গলার গান শুনে সব্বাই তাল মেলায় | কয়েক হাজার গাছ আর তার থেকে অনেকগুণ প্রজাপতি , পাখি , কীটপতঙ্গ আর মৌমিতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় |

প্লাস্টিক যখন সবার কাছে ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে , জীবনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন মৌমিতার কাছে একটা অতিরিক্ত প্লাস্টিক মানে একটা অতিরিক্ত গাছ | আমরা যখন সমস্যার সমাধান খুঁজি তখন মৌমিতার মতো অন্যরকম মানুষেরা নীরবে এমন কিছু করে চলেন , যা সমাধান হয়ে নতুন ধারার পথ দেখাতে পারে | মৌমিতাদের পথ আমাদের পথ হবে কিনা সেটা মৌমিতারা বলে দেবেন না , আমাদেরই ঠিক করতে হবে |

মৌমিতা সরকার
Advertisements