দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : রাজারহাটে দূষণ রোধে বসতে চলেছে এয়ার আয়োনাইজার। এছাড়া লাগানো হবে তিন হাজার গাছ। নিউটাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটির তত্ত্বাবধানে বসতে চলেছে যন্ত্রটি। অথচ খোদ রাজারহাটেই নেই কোনো দূষণ পরিমাপক ব্যবস্থা। পরিবেশবিদরাও খানিকটা অবাক হয়েছেন এতে। বায়ুদূষণের অন্যতম ইন্ডিকেটর ধরা হয় PM ২.৫ কণাকে। এতটাই সূক্ষ্ম এই কণাগুলি যে নাক এবং শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে অনায়াসেই। উন্নত দেশগুলিতে যেখানে এর মাত্রা প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে ১০ মাইক্রোগ্রাম রাখা হয়েছে সেখানে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এর পরিমাণ প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম থাকার কথা। অথচ ইদানীং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন অঞ্চলে এর পরিমাণ আশি ছুঁইছুঁই। মানে দূষণমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি।

কলকাতার ফুসফুসের যখন এই অবস্থা তখন শ্যামবাজার কিম্বা শিয়ালদহের মতো ব্যস্ত অঞ্চলের অবস্থা পাল্লা দিয়েই আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। অথচ সেইখানেই নেই কোনো গাছ লাগানোর পরিকল্পনা অথবা দূষণরোধী যন্ত্র। “রাজারহাট কিন্তু এই তুলনায় অনেকটাই দূষণমুক্ত। বা ঠিক কতটা দূষণ হচ্ছে তা জানারও উপায় নেই।” জানালেন পরিবেশবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ। সোমেন্দ্রমোহন বাবুর মতে PM ২.৫ শুধু নয়, PM ১এর দিকেও এবার নজর দেবার সময় এসেছে। “এই কণাগুলি আরো মিহি ও আরো ক্ষতিকর। রক্তসংবহন তন্ত্র হয়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে PM ১।” অথচ ভারতে PM ২.৫ নিয়েই কাজ হয়ে চলেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতবর্ষ বিশ্বের ডায়াবেটিক ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফুসফুসের সমস্যা ও ত্বকের ক্যান্সার। বেড়ে যাচ্ছে কলকাতার সারফেস ওজোন লেয়ার। সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ বলেন “সাধারণত গাড়ির ধোঁয়া থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গত হয় তার সাথে সূর্যালোক আর জলীয় বাষ্পের মিশ্রনে এই সারফেস ওজোন বেড়ে যায়। মাটি থেকে ফুট পাঁচেকের মধ্যে এটা ঘোরাফেরা করে। এছাড়া গাড়ির ধোঁয়া থেকে যে তপ্ত অদৃশ্য ধাতব কণা বেড়িয়ে আসে, গরমকালে অনেকটা তার প্রভাবেই আমাদের দেহে লাল লাল দাগ বেরোয়। অনেকে এগুলোকে ঘামাচি ভেবে ভুল করেন।”

মাটি থেকে ৪-৫ ফুটের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো দূষণে যে শুধু মানুষের ক্ষতি হয় এমনটা ভাবা ঠিক নয়। কুকুর বেড়ালরা যেহেতু মাটির খুব কাছাকাছি বাস করে, তাই এতে তাদের কতটা ক্ষতি হয় সেটাও এখন ভাববার বিষয়।
সামনেই ভোট। সোমেন্দ্রমোহন ঘোষরা কিছুদিন আগে কলকাতা প্রেস ক্লাবের একটি সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি একটি বার্তা দেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের ইস্তাহারে পরিবেশের প্রশ্নকে গুরুত্ব দিতে হবে। বরং শুধু গুরুত্ব নয়, প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য রাখতে হবে আইনি বাধা নিষেধ। যাতে আগামী দিনে প্রতিশ্রুতি পালিত না হলে সাধারণ মানুষ হাঁটতে পারেন কোর্টের দরজা পর্যন্ত।

গত শীতকালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কিউ আই মেশিনে দূষণের সূচক পাঁচশ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার বায়ুর মাত্রা ছুঁয়েছে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ছুঁয়েছে দুশ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার বায়ু। দিনে আঠারো থেকে বাইশটা সিগারেট খেলে যে পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে উত্তর কলকাতার বাতাস ইদানীং এতটাই দূষিত। শুধুমাত্র দ্বীপাঞ্চল নয়, আগামী দিনে কলকাতার বাতাসের স্বাস্থ্য যে গ্রিণ ওয়ালের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে চলেছে সেটা আপাতত পরিষ্কার।

ছবি প্রতীকী

Advertisements