“একটা 500 আর একটা 1 লিটার দেবেন” একটা নিজের খুদেকে দিয়ে একটা নিজের ব্যাগে রাখেন নির্মলবাবু। এ চিত্র শহর পেরিয়ে শহরতলিতে পৌঁছেছে। আজকাল বাড়ি থেকে জল বহন করা যেমন আলাদা ঝক্কি তেমনি দোকান থেকে জল কেনা হয়েছে একটা ফ্যাশন। কিন্তু প্রশ্ন এটাই ওই দশ বা কুড়ি টাকার জল কতটা পরিশ্রুত ? আর ওই কেনা বোতলটার গায়ে যে বড় বড় করে লেখা “Crush the bottle after use” তার কী হবে ?

শহরের এক অংশ পাইপ লাইনে আসা জলের প্রতি সন্দিহান। আর ব্যস্ত জীবনযাত্রায় নির্ভর করতেই হয় দোকানের বোতল এবং জারগুলোরই ওপর। অপরদিকে শহরতলির বাসিন্দাদের ক্ষোভ , “টিউবওয়েল গুলো খারাপ হয়ে পড়ে আছে , টাইমকলের অবস্থাও তাই। যেগুলোর অবস্থা ভালো তার পাশের খারাপ নিকাশি ব্যবস্থায় সে জল মুখে দেওয়া যায় না”। কিন্তু নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন বেশিরভাগ মানুষই পরিশ্রুত জল খাবার প্রচেষ্টায় যেমন নিজেদের ক্ষতি করছেন , তেমনি করছেন পরিবেশেরও। বোতলবন্দি বা জারবন্দি ওই জলগুলোর আদৌ গুণগত মানের কোনো শংসাপত্র নেই , বিকোচ্ছে কেবল বোতলের গায়ে মারা লেবেলে। তাছাড়া কারখানাগুলোর কোনো প্রশাসনিক ছাড়পত্র আছে কি না সেটাও একটা প্রশ্নের দাবি রাখে। অথচ এই জল ব্যবসার রমরমায় কমছে জলের স্তর , বাড়ছে দূষণ।

পরিবেশকর্মীদের মতে, “এইভাবে জল তোলা হলে জলের স্তর মারাত্মক ভাবে কমতে থাকবে। অপর দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টির অভাবে টান পড়বে ভৌমজলের ভাঁড়ারেও। জলেরস্তরের কমে যাওয়া যেমন খরার আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয় তেমনি ভূমিকম্পের প্রবণতাকেও ত্বরান্বিত করে।” আর কোনো স্থানে মাটির নিচে জলস্তর কমে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই পাশ্ববর্তী এলাকার জল সেখানে আসে। এইভাবে আর্সেনিক ফ্লুরাইডের সংক্রমণও বেড়ে যায়। আর সেই জল বোতল বন্দি হবার আগে কতটা পরিশ্রুত হয় তা নিশ্চিতভাবে কে বলতে পারে ? তারপর জল খেয়ে নিয়ম মেনে রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলগুলির ভবিষ্যত তো সবাই পড়ে পরিবেশের পাতায়।

একএকটা শহরতলিতেই এইরকম জলের কারখানা গড়ে উঠেছে 20-25 টা। শহরে এর সংখ্যাটা তো আন্দাজের আর অপেক্ষা রাখে না। আর তার জন্য বোতল কারখানার সংখ্যা কী আর আন্দাজেও আসবে ? কিন্তু এই জল তোলা থেকে বোতলবন্দি হয়ে রাস্তার ধারে মোচড়ানো বোতলটা ফেলা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটার দায় কে নেবে ?

Advertisements