দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : ৬ই এপ্রিল পুরুলিয়ার তিলাবনী পাহাড়ের গ্রামগুলিতে পদযাত্রার পর আজ ৭ই এপ্রিল অযোধ্যা পাহাড়ে পদযাত্রা ছিল “দ্য গ্রিন ওয়াক”এর | সকাল আটটা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার চল্লিশজন পরিবেশকর্মী পদযাত্রা শুরু করে | অযোধ্যা পাহাড়ের গ্রামগুলিতে পদযাত্রীরা যায় , গ্রামবাসীদের সাথে পরিবেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়| উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর থেকে আগত কর্মসূত্রে শিক্ষিকা রূপালী চাকলাদার জানান, “আমরা গ্রামগুলিতে অনেকগুলি সবুজ সভা করি | সবুজ সভায় গাছ না কাটা , প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো , জলের অপচয় রোধ করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনা হয় | গ্রামবাসীরা আমাদের অবৈধভাবে পাহাড় ধ্বংসের বিষয়টিও জানান |”

অযোধ্যা পাহাড়ের গ্রামগুলির মাটির দেওয়ালে ঠুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে দেওয়াল লিখন দেখতে পাওয়া যায় | বনগাঁর পরিবেশকর্মী তুতুল বসাক জানান,”গ্রামবাসীদের সাথে দেওয়াল লিখন নিয়ে জানতে চাইলে তারা নীরবই থাকেন | তেমন কিছু জানেন না বলে জানান | গ্রামবাসীরা ঠুরগা প্রকল্প নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখান | তারা পাহাড় বাঁচাতেও চান আবার জলবিদ্যুৎও চান | তাদের অনেকেরই মত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হলে গ্রামবাসীদের আয়ের সুযোগ হবে , তাদের উন্নয়ন হবে |”

প্রস্তাবিত ঠুরগা প্রকল্পের কাছে পরিবেশকর্মীরা পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে প্রচার করার সময় চারজন মদ্যপ দুষ্কৃতী পরিবেশকর্মীদের উপর চড়াও হয় | তারা পাহাড় জঙ্গল নিয়ে কথা বলতে বাঁধা দেয় | অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে , পরিবেশকর্মী মহিলাদের অপমান করে | শান্তিপুরের পরিবেশকর্মী সঞ্জিত কাষ্ঠ জানান, “দুষ্কৃতীরা আমাদের কাছে দশ হাজার টাকাও দাবি করে | আমরা টাকা দিতে না চাইলে আমাদের দিকে পাথর ছুঁড়তে থাকে | পরিবেশকর্মীদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধে দুষ্কৃতীরা পিছু হটে |”

পরিবেশ পদযাত্রীদের উপর হামলার পর পদযাত্রীরা বাঘমুন্ডী থানায় যান লিখিত অভিযোগ জানাতে | পরিবেশকর্মী জিতেন নন্দী বলেন,”বাঘমুন্ডী থানার ওসি সুদীপ হাজরাকে আমরা বিষয়টি বিস্তারিত জানাই , উনি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে তখনই ব্যবস্থা নিতে বলেন তার অধঃস্তন অফিসারদের | ওসিকে ঠুরগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী আন্দোলন নিয়ে চিন্তিত মনে হল | আমাদেরও সেরকম কিছু মনে করছিলেন পুলিশ প্রথমে , আমাদের সকলের পরিচয় জানার পর তারা আশ্বস্ত হন |”

“দ্য গ্রিন ওয়াক” দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে রাজ্য জুড়ে পরিবেশ পদযাত্রা করছে | অযোধ্যা পাহাড়ের পদযাত্রাটি ছিল তাদের দশম পদযাত্রা | রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তাদের পদযাত্রা পৌঁছে গেছে | পরিবেশকর্মী কল্লোল রায় জানান , “পদযাত্রাগুলিতে একদিকে যেমন সাধারন মানুষের ভেতর দারুন সাড়া পড়ে , সাধারন মানুষও পরিবেশের প্রশ্নে পায়ে পা মেলান , সবুজপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষা নেন ; তার সাথে পরিবেশমাফিয়াদের আক্রমণ প্রায়ই নেমে আসে | অযোধ্যা পাহাড়ের ঘটনাটি এরই একটা ঘটনাক্রম মাত্র |” “দ্য গ্রিন ওয়াক” কোন বাঁধা মানে না , সবুজ পা কখনোই থামানো যায় না , সবুজ রক্ষার বার্তা নিয়ে আসমুদ্রহিমাচলের পায়ে পা মেলানো চলতেই থাকবে | অযোধ্যা পাহাড়ে “দ্য গ্রিন ওয়াক” আবারও আসবে , বারবার আসবে , কারন পাহাড়ের মানুষও এখন “দ্য গ্রিন ওয়াক” হয়ে উঠতে শুরু করেছে |

Advertisements