দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : ৬ এপ্রিল পুরুলিয়ার মাধবপুরে তিলাবনী পাহাড় বাঁচাতে , পদযাত্রা করল রাজ্যের পরিবেশকর্মীদের মুক্তপ্রবাহ “দ্য গ্রিন ওয়াক” | পদযাত্রায় পা মেলান রাজ্যের বিভিন্ন জেলার চল্লিশজন পরিবেশকর্মী | মাধবপুর থানার “তিলাবনী পাহাড় বাঁচাও কমিটি” র পক্ষ থেকে সদস্যরা পদযাত্রায় পা মেলান | পাহাড় বাঁচাও কমিটির স্বরূপ মাহাতো জানান, “সরকার তিলাবনী পাহাড় কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে গ্রানাইট পাথর খনন করার জন্য | সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমরা মানব না | ” তিলাবনী পাহাড়ের চারিদিকে তিলাবনী , লেদাবনা, পড়শিবনা, মাধবপুর গ্রাম | গ্রাম চারটির মানুষের জীবন জীবিকার অনেকটা পাহাড়ের উপর নির্ভরশীল | দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব পরিবেশকর্মী জিতেন নন্দী বলেন, “পাহাড় ধ্বংস হয়ে গেলে প্রথম যে সমস্যা দেখা দেবে তা হল এখানকার প্রাকৃতিক জলাধারগুলোতে জল থাকবে না কারন প্রতিনিয়ত পাহাড় চুঁইয়ে আসা জল জলাধারগুলিকে সমৃদ্ধ করে | ”

পদযাত্রা শুরু হয় সকাল আটটায় তিলাবনী গ্রাম থেকে | লেদাবনা , পড়শিবনা , মাধবপুর হয়ে পদযাত্রা তিলাবনীতে শেষ হয় বিকাল তিনটায় | পদযাত্রীদের গলায় ঝোলে পাহাড় বাঁচানোর বার্তা দেওয়া পোস্টার | আবার অনেকের বুকে অবিরল গঙ্গা আন্দোলনের ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দের পোস্টারও দেখা যায় | উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর থেকে আসা বছর চল্লিশের সুদীপা রায় জানান , “ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দের অবিরল গঙ্গার জন্য অনশনের বার্তা সকলকে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার , গঙ্গার সাথে সাথে সমস্ত ভারতের নদী বাঁচাও আন্দোলন আরো শক্তিশালী করতেই হবে |” পদযাত্রীরা গ্রামগুলোতে ছোট ছোট সবুজ সভা করে , মানুষ পাহাড় ধ্বংসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন “দ্য গ্রিন ওয়াক”-এর পরিবেশকর্মীদের কাছে |

গ্রামগুলোর কচিকাচারা এগিয়ে আসে | তারাও তাদের পাহাড় বাঁচাতে বড়দের সাথে থাকতে চায় , ক্লাশ টুয়ের অম্বিকা গুমড়ে ওঠে , ” আমাদের টিলাবনী পাহাড় কেন ভাঙছে ? আমাদের পাহাড় ওরা কেন ভাঙবে ? আমরা ভাঙতে দেব না |” ক্লাশ ফাইভের ভূমিকা বলে, “পাহাড়ে গাছ আছে বলে আমরা বেঁচে আছি |” ক্লাশ ফোরের পায়েল , “পাহাড় আছে তাই আমাদের সম্মান আছে |” আসলে ওদের পরিচয়টাই ওদের তিলাবনী পাহাড় , একমাত্র গর্বের বস্তুও | তিলাবনী পাহাড় না থাকলে ওদের আশ্রয়টাই হারিয়ে যাবে , এতগুলি মানুষ অবিভাবক হারা হয়ে যাবে | মুর্শিদাবাদের ষাটোর্ধ্ব পরিবেশকর্মী মহম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, “মুর্শিদাবদ থেকে এত দূরে ছুটে এসেছি কারন মানুষগুলির পাশে আমাদের সকলের দাঁড়ানো উচিত , নাহলে নিজেকে নিজেই ক্ষমা করতে পারব না |”

পদযাত্রার শেষ হয় তিলাবনী গ্রামে সবুজ সভার মধ্য দিয়ে | সবুজ সভায় পদযাত্রীদের সাথে চারটি গ্রামের শতাধিক সাধারন মানুষ যোগ দেয় | তিলাবনী পাহাড়কে বাঁচানোর জন্য সদর্থক আলোচনা হয় | “দ্য গ্রিন ওয়াক”-এর জার্মানির প্রতিনিধি কিংশুক রায় জানান , “তিলাবনী পাহাড় বাঁচাতে আমরা আমাদের তরফ থেকে প্রচার আরো বাড়াব , যা করার তাই করব | আমি আজ ওদের সাথে হেঁটে , কথা বলে বুঝেছি তিলাবনী পাহাড়ের সাথে ওদের যে আবেগ ভালোবাসা জড়িয়ে আছে তাকে আমাদের সম্মান করতেই হবে |” তিলাবনী পাহাড় একা নয় যা ধ্বংসের মুখে , সমস্ত রাজ্য সমস্ত দেশ সমস্ত পৃথিবীময় তিলাবনী পাহাড় ছড়িয়ে আছে যা বিপন্ন | পাহাড় বাঁচানোর লড়াইটা জারি রাখতেই হবে যার প্রতিজ্ঞা আজ তিলাবনী পাহাড়ের মানুষগুলি একসাথে নিল |

Advertisements