দ্য গ্রীন ওয়াক ব্যুরো : আচ্ছা গেরিলা বলতে আপনার প্রথম কাকে মনে পড়ে? ছত্রপতি শিবাজী নাকি চে গেভারা? না মাও সে তুং? আলিপুরের মন্টু হাইত?

কি শোনেন নি তো? তিনি একজন গাছ গেরিলা। তাঁর মুক্তাঞ্চল এখন কলকাতার চারপেয়ে সর্বহারাদের স্বর্গরাজ্য। ভাম , বেড়াল আর সোনালী শেয়ালদের সম্মেলন বসছে রোজ। খোদ কলকাতার বুকে এই অবাক কান্ড ঘটিয়েছেন মন্টু হাইত।
নিউ আলিপুর আর মাঝের হাট স্টেশনের মাঝে চারটি রাস্তা। লম্বায় এক কিলোমিটার। চওড়ায় চারের এক কিমি। সব মিলিয়ে আয়তন চারের এক বর্গ কিলোমিটার। গত দশ বছরে এখানেই মন্টু হাইত প্রায় ২৫০০০ গাছ লাগিয়েছেন। প্রথম দিকে চারা গাছ বসাতেন। তাদের কেউ কেউ ডালপালা মেললেও বাকিদের বাঁচানো যায়নি। তারপর থেকে বীজ ছড়ানোতেই মন দেন মন্টুবাবু। ক্রমশ বড় হতে থাকে জঙ্গল। কদম, তেঁতুল, শিরীষ, বাদাম, বাবলার মতো শহর থেকে হারিয়ে যেতে বসা বহু প্রজাতির গাছ আছে এখানে।

আচ্ছা আগে কি এখানে এরকমই জঙ্গল ছিল? তারপর কোনো কারণে কাটা পড়ে? উত্তরে মন্টুবাবু বললেন , “জায়গাটা পোর্টের। আগে যে জঙ্গল একেবারেই ছিল না এমনটা নয়। তবে সত্তর আশির দশকে কলকাতায় ভীষণ ভাবে গাছ কাটা পড়ে। নব্বই দশকের মাঝামাঝি আমি মাধ্যমিক দিয়েছিলাম। তখন ছাত্রজীবন বলে বেশি কিছু করতে পারিনি।” তারপর? “তারপর ২০০০ সালের পর থেকে আমার নেচার স্টাডি অনেক বেড়ে যায়। যোগাযোগ বাড়ে। ২০০৮-০৯ থেকে গাছ পোঁতা শুরু করি। জায়গাটা নিজস্ব নয় বলে গেরিলা গার্ডেনিং করতে হয়।” পেশায় আইনজীবী বছর তেতাল্লিশের মন্টুবাবু এতদিনে এরকম ভাবেই প্রায় হাজার পঁচিশেক গাছ তৈরি করে ফেলেছেন।

আর কী ভাবছেন? মন্টুবাবু কথা প্রসঙ্গে বললেন “ন্যাশানাল হাইওয়েগুলোর দুপাশে গাছ লাগানোর কথা ভাবছি। আসলে যে ধরনের গাছ এখন লাগানো হয় তা মোটামুটি একই ধরনের। এতে সবুজায়ন হলেও বায়ো-ডাইভারসিটির ব্যাপারটা একটু অবহেলিত রয়ে যায়। তাই তাল, কলা, খেজুর, তেঁতুল, নোনা, চালতার মতো গাছ অনেক মাত্রায় লাগানো যেতে পারে।” কচিকাঁচাদেরও একই পরামর্শ দেন মন্টুবাবু। কলকাতার রাস্তায় যেখানে পুরোনো গাছ মরে গেছে সেখানেই তো আবার নতুন গাছ লাগানো সম্ভব, মনে করেন মন্টু হাইত।

সম্প্রতি একজোড়া সোনালী শেয়াল দেখা যাচ্ছে মন্টুবাবুুদের জঙ্গলে। দিন কয়েক বাদে তারা হয়ত বংশ বৃদ্ধি করবে। প্রজাপতিরা রোজ আসছে এখন খাবারের খোঁজে। শীতকালে দূরদেশের পাখিরাও পাড়ি জমায় এখানে। মন্টু হাইতের মতো মানুষেরা স্বপ্ন দেখেন, এভাবেই হয়তো কলকাতা একদিন “কল্লোলিনী তিলোত্তমা” হয়ে যাবে।

Advertisements