দ্য গ্রিন ওয়াক ব্যুরো : ইছামতী নদীর অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের ধারের গ্রাম পাঁচপোতা | গ্রামটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা থানায় অবস্থিত | গ্রামের ছোট ‘ফ্রেন্ডস কিচেন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’ , আর পাঁচটি গ্রামের হোটেল বা রেস্টুরেন্টের মতোই সামান্য | কিন্তু অসামান্য যেটি সেটি হল , রেস্টুরেন্টের বাইরে রেস্টুরেন্টেরই সৌমেন বাবুর অসামান্য প্রচেষ্টাটা | রেস্টুরেন্টের সামনে একটা টিনের চাল থেকে ঝুলছে অনেকগুলো দড়ি | দড়ি বেয়ে থরে থরে ঝুলছে বিভিন্নরকম গাছ | গাছগুলি সব রেস্টুরেন্টে ব্যবহৃত সসের প্লাস্টিক বোতল কেটে তাতে মাটি ভরে লাগানো | বোতলে অন্যান্য গাছের সাথে এমন সবসময় সব্জিও আছে যা রেস্টুরেন্টে টাটকা লাগে |

আমরা যখন প্লাস্টিক নিয়ে এত চিন্তিত , সরকার থেকে পরিবেশপ্রেমীরা প্লাস্টিকের পূনর্ব্যবহার নিয়ে সবসময় বলেও কোনো ফল পাচ্ছে না , সেখানে প্রচার থেকে অনেক দূরে থাকা ফ্রেন্ডস কিচেনর সৌমেনবাবু প্লাস্টিক পূনর্ব্যবহারের নির্দশন রেখে যাচ্ছেন | সৌমেন বাবুকে তার এই অন্যরকম কাজের কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমার গাছ ভালো লাগে , আর কিছু টাটকা সব্জিও চাই তাই গাছ লাগিয়েছি | গাছ লাগাতে গিয়ে জায়গার খুব সমস্যা তাই ভার্টিক্যাল গার্ডেনর মতো করলাম | তাছাড়া প্লাস্টিক ফেলে দিয়ে তো ক্ষতি , তার থেকে সেগুলি দিয়ে টব করে ফেললাম , টব কেনার পয়সা বাঁচল |”

সৌমেন বাবু কোনোরকম পরিবেশ আন্দোলনের সাথে যুক্ত নন , তিনি জানেনও না পরিবেশ আন্দোলন বলে কিছু হয় , বিশ্ব উষ্ণায়ণ নিয়েও তার মাথা ব্যথা নেই | তিনি শুধুমাত্র নিজের লাভের কথা ভাবতে গিয়েই এমন কাজ করে ফেলেছেন যা এই সময়ে দাঁড়িয়ে অন্যদেরও পথ দেখাতে পারে | যেমন ভাবে রেস্টুরেন্টের পথেও তিনি ঝুলিয়ে দিয়েছেন একটা বোর্ড , যাতে লেখা আছে, “কলে যাওয়ার রাস্তা পরিস্কার রাখুন , নোংরা ফেলবেন না, বাথরুম করবেন না |”

Advertisements