– সঞ্জিৎ কাষ্ঠ ; পরিবেশকর্মী

অবিরল গঙ্গা, নির্মল গঙ্গার দাবিতে হরিদ্বারের মাতৃসদন আশ্রমে ১৬১ দিন অনশনরত ২৬ বছরের যুবক আত্মবোধানন্দের সমর্থনে এবার অনশনে বসল নদীয়া জেলার শান্তিপুরের কন্দোখোলা গ্রামের শিশুরা৷ গত ২রা এপ্রিল কন্দোখোলা গ্রামের একটি স্কুলের আম গাছের তলায় অনশনে বসে বর্তমান সময়ে দেশের মধ্যে নজির গড়ল৷

এদিন শিশুদের সাথে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয়, সমাজসেবী, পরিবেশকর্মী, নদীকর্মী সহ বহু মানুষ সামিল হন ৷ স্থানীয় সমাজসেবী কানাই সরকার, বিশ্বজিৎ নন্দী, প্রাক্তন শিক্ষক সুবোধ দাস হরিদ্বারের সাথে তাঁদের গ্রামের মানুষের আত্মিক যোগাযোগ করার জন্য এ দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজক “নদীয়ার যুগবার্তা” পরিবারকে অভিনন্দন জানান৷ অনশনরত শিশুদের মায়েরা হাতে মাইক নিয়ে নদী দূষণ বৃক্ষরোপণ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলেন ৷ শিশুরাও চেষ্টা করে তাদের অন্তরের কথা আত্মবোধানন্দকে শোনানোর ৷

এই উদ্যোগে সামিল হয়ে শান্তিপুরের বিশিষ্ট মানুষ এবং পরিবেশকর্মী সাধন দত্ত, সুশান্ত মঠ, অমাতাভ মিত্র, তপন বসু, সুভাষ দেবনাথ, কুশল প্রামানিক, শুভঙ্কর দত্ত, শ্যামসুন্দর প্রামাণিক, রহুল্লা কারীকর, মোহর দে বিশ্বাস নিজেদের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন ৷ বক্তারা এই উদ্যোগ সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানান৷ রাজ্যের বর্তমান সময়ের অন্যতম নদী গবেষক সুপ্রতিম কর্মকার শিশুদের কথা শুনে শত ব্যস্ততার মাঝেও এসে শিশুদের সাথে নদীর গুরুত্বের কথা বোঝান ৷ সুদূর সুন্দরবন থেকে ছুটে আসেন নদী কর্মী মৃত্যুঞ্জয় হালদার ৷

বাচ্চাদের ডাক উপেক্ষা করতে পারেননি গঙ্গা নদীর সমর্থনে দিল্লি থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী গৌতম দে সরকার এবং নদী বাঁচাও জীবন বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব তাপস দাস৷ সবশেষে গৌতম দের গানের সাথে নদী গবেষক সুপ্রতিম কর্মকার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট জন শিশুদের জল বাতাসা খাইয়ে প্রতীকী অনশন ভঙ্গ করান৷

হরিদ্বারের মাতৃসদন আশ্রমের ইতিমধ্যে চারজন সন্ন্যাসী গঙ্গার অবিরলতা ও নির্মলতার দাবিতে আত্মবলিদান দিয়েছেন | বর্তমানে ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ অনশন করে যাচ্ছেন | মাতৃসদন আশ্রমে আন্দোলন ইতিমধ্যে সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করছে , বাংলা সবচেয়ে এগিয়ে| তারই মাঝে আত্মবোধানন্দের সমর্থনে শিশুদের অনশন নদী আন্দোলনে নতুন মাত্রা দিল | অনশন মঞ্চের প্রতিটি শিশুই যেন গ্রেটা থুনবার্গ |

Advertisements